“এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শমূলক কর্মসূচি”

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য, বাজারের গভীরতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি. (ডিএসই) এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস প্রবর্তন বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সচেতনতা ও পরামর্শমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক, সিএফএ, এফআরএম, নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের৷ 

কর্মসূচিতে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার নফিস আল তারেক, সিএফএ, বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভ চালুর বিষয়ে কমিশন ইতিবাচক হলেও এর আগে বাজারের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। ডেরিভেটিভ একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এটি বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেরিভেটিভ চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে একটি সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (CCP) ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং CCBL-এর প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নফিস আল তারেক বলেন, CCP কার্যকর না হলে ডেরিভেটিভ কার্যক্রম চালু করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে ব্রোকার, ট্রেডার ও অন্যান্য বাজার অংশীজনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় ফিউচারস মার্কেট বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও হেজিংয়ের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে বাজারের তারল্য ও অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় ডেরিভেটিভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভ চালুর ক্ষেত্রে কমিশন, এক্সচেঞ্জ, CCBL এবং বাজারের অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধিমালা, অবকাঠামো ও সক্ষমতা নিশ্চিত করে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।

তার আগে ডিএসই ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার অনুষ্ঠানে বলেন, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে নতুন আর্থিক পণ্য প্রবর্তনের এই উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ডিএসই ও কমিশনের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।

বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভ, বিশেষ করে ইনডেক্স ডেরিভেটিভ, ক্যাশ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সহজে চালু করা সম্ভব হলেও এর সফল বাস্তবায়নে শক্তিশালী রেগুলেটরি, প্রযুক্তিগত, ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কাঠামো প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে বিদ্যমান Exchange Derivatives Rules যুগোপযোগী করে প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ের উপযোগী প্ল্যাটফর্ম, CCP, রিয়েল-টাইম মার্জিনিং, পজিশন মনিটরিং ও Mark-to-Market ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নির্ধারিত অ্যাকশন প্ল্যান ও সময়সীমা অনুযায়ী প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়মিত মনিটর করা হবে। পুঁজিবাজারের গভীরতা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালুর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে আধুনিক আর্থিক পণ্য প্রবর্তন ও বাজারের গভীরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডেরিভেটিভ পণ্য চালুর পরিকল্পনা করছে এবং বিএসইসি তা অনুমোদন করেছেন।

ডেরিভেটিভ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অংশীজনদের প্রস্তুত করতে ডিএসই কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে বিএসইসির কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনের সহযোগিতায় প্রস্তুতি কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রথম ধাপে ডিএসইর নিজস্ব সূচকভিত্তিক Stock Index Futures, পরবর্তী ধাপে Single Stock Deliverable Futures এবং দীর্ঘমেয়াদে Options Market চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচির মাধ্যমে ডেরিভেটিভস পণ্য সম্পর্কে বাজার অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের পণ্য প্রবর্তনের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বিষয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ হয়।

এএইচ/পিএস