ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা চান গ্রাহকরা, চাকরি ফেরতের দাবিতে কর্মীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি : সোনালীনিউজ

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় ও শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন তাঁরা।

দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। তাঁরা ইসলামী ব্যাংকের অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ নিয়ে টানা পাঁচ দিন ধরে প্রধান কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালন করছে ফোরামটি।

[275710]

অন্যদিকে শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ‘দফা এক, দাবি এক—চাকরি ফেরত চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও শতাধিক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখনো তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি তাঁরা। গভর্নরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিকের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে, তখন ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে গ্রাহকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলেও জানান তিনি।

ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার, অবৈধ ঋণ সুবিধা সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, এস আলমের সময়ে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁদের চাকরিতে রাখার জন্য পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের অনেকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মিজান। তাঁর দাবি, পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আদালতে যাওয়ার কারণে অনেকে পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই চাকরিতে বহাল রয়েছেন—এ দাবিও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

আরেক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আনোয়ার অভিযোগ করেন, কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এএইচ/এসআই