জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীসহ দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ যেটুকু বেড়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে বাজারে অনিয়ম ও অসাধু কারসাজি চরম আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, সবজি, মাছ থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যের দামই লাগামহীন। যশোর থেকে আসা বেগুনের ক্ষেত্রে ট্রাকভাড়া বাড়ার কারণে কেজিপ্রতি খরচ বেড়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা, কিন্তু কাওরান বাজারের খুচরা বিক্রিতে দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিপ্রতি ২০ টাকা।
একই অজুহাতে কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে মোটা চালের দাম। কুমিল্লার পাঙাশ মাছে পরিবহন খরচ কেজিপ্রতি ২ টাকা বাড়লেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে। কাঁচামরিচ, টমেটো, ডিম ও সয়াবিন তেলের দামও হুট করে অনেক বেড়ে গেছে।
ক্রেতারা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বাজারে অভিযান চালানোর কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো সুফল মিলছে না। কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, দুই কোটি মানুষের রাজধানীর জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাত্র ৬টি টিম মোটেও পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
বিআইডিএসের বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের আয় না বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক ধস নেমেছে। মধ্যস্বত্বভোগী ও অসৎ চক্রের হাত থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করতে দ্রুত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
এসএইচ