শীতের আগেই সব সবজির দাম ১০০ টাকার ঘরে ছুঁইছুঁই

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শীতকালীন আগাম শাকসবজির উপস্থিতি বাড়লেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। পেঁপে ছাড়া বাজারে প্রায় প্রতিটি সবজির দামই ছুঁইছুঁই করছে একশ টাকার ঘর। অথচ শীত পুরোপুরি শুরু হতে এখনও বেশ কিছুদিন বাকি থাকলেও কেবল আগাম আমদানির অযুহাতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। তবে সবজির বাজারে এই অস্বস্তির মধ্যেও স্বস্তির খবর নিয়ে কিছুটা কমেছে অতি প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচামরিচের ঝাঁজ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁপে ছাড়া অন্য কোনো সবজিই সস্তায় মিলছে না। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। অথচ শীতের অন্যতম জনপ্রিয় সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে, যা ঠেকেছে ২০০ টাকায়। এছাড়া বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং বরবটি, ঝিঙে ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। মান ও আকারভেদে প্রতিটি লাউ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।

সবজির বাজারে আগুন থাকলেও ডিম ও মাংসের দাম তুলনামূলক আগের অবস্থাতেই স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ডিমের বাজারেও খুব একটা হেরফের দেখা যায়নি; প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ টাকা এবং হালিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সামগ্রিক দামের গতিপ্রকৃতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মাছের তাজা অবস্থা, আকার এবং বাজারের ভিন্নতার কারণে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকার তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো তুলনামূলক সহজলভ্য মাছগুলো ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আকারভেদে রুই ও কাতলা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। এছাড়া চাষের কই, শিং, মৃগেল, পাবদা, ভেটকি ও পোয়া মাছ মিলছে ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে।

তবে কিছুটা সৌখিন ও দেশি জাতের মাছের দাম বরাবরই চড়া রয়েছে। দেশি কই, বাইম, ট্যাংরা এবং সাধারণ শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে চিংড়ি, রূপচাঁদা, নদীর বেলে এবং বড় আকৃতির শোল মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিতে হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

বাজারের এই মূল্যপার্থক্যের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা রহিম মিয়া জানান, মাছের নির্দিষ্ট কোনো বেঁধে দেওয়া দাম থাকে না, সবকিছুই নির্ভর করে পাইকারি বাজারের সরবরাহের ওপর। বাজারে আমদানি বাড়লে যেমন দাম কমে, তেমনি ক্রেতার চাপ বাড়লে মুহূর্তেই দাম বেড়ে যায়। এমনকি একই দিনে সকাল ও বিকালের বাজার দরেও ভিন্নতা দেখা যায়।

সবমিলিয়ে প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ আয়ের মানুষকে। একদিকে বাড়তি দামের সবজির বোঝা, অন্যদিকে মুরগি ও মাছের চড়া বাজার-সব মিলিয়ে বাজারের হিসাব মেলাতে গিয়েই নাভিশ্বাস উঠছে রাজধানীবাসীর।

এসএইচ