হ্যাকিংয়ের কবলে জনতা ব্যাংক, এখন কী হবে?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক সাইবার হামলার ঝুঁকির কারণে আগে থেকেই বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ রাখা হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট। তবে সেই সতর্কতা সত্ত্বেও হ্যাকারদের কবল থেকে রক্ষা পায়নি ব্যাংকটির পোর্টাল। হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওয়েবসাইটটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হয়নি। তবে জরুরি কাজ শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি স্থানে মারাত্মক স্প্যাম ও ক্ষতিকর আক্রমণের আলামত শনাক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। বর্তমানে ব্যাংকটির নিজস্ব আইটি বিভাগের কর্মীরা ত্রুটিগুলো নিরসন ও মেরামতের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সাইবার আক্রমণের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তা নিরাময়ে কিছুটা বাড়তি সময় লাগছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে খুব দ্রুতই পরিষেবাটি চালুর চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি বা সিকিউরিটি বাগ শনাক্ত হয়। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা 'এনিসা'সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিশ্বজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করে।

সংস্থাগুলো স্পষ্ট করে জানায়, উক্ত ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা আক্রান্ত সার্ভারে ক্ষতিকর কোড বা মালওয়্যার চালিয়ে পুরো ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হালনাগাদ সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশনগুলো ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

সেই বৈশ্বিক সতর্কবার্তার ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটটি সফলভাবে পুনরায় চালু করা সম্ভব হলেও জনতা ব্যাংকের পোর্টালে এই হ্যাকিংয়ের বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক যেমন— সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের ওয়েবসাইটগুলো স্বাভাবিক ও সচল রয়েছে।

এসএইচ