ঢাকা: গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধে অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। মেয়াদপূর্তির আগে সরকারি ট্রেজারি বন্ড নগদায়ন না করে স্থায়ী সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের জন্য সময় চেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে দাবি পরিশোধের তহবিল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটির নতুন পলিসি বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
আইডিআরএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি ট্রেজারি বন্ড নগদায়ন করে ১০ কোটি টাকা অথবা স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে পাওয়া ১৫ কোটি টাকা গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। এই অর্থ জমা না হওয়া পর্যন্ত নতুন পলিসির প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে পারবে না কোম্পানিটি। তবে পুরোনো পলিসির নবায়ন প্রিমিয়াম গ্রহণ ও বীমা দাবি পরিশোধ কার্যক্রম চালু থাকবে।
আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের পরিচালক দেবপ্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বীমা আইন, ২০১০-এর ৫০(১)(ঙ) ধারার ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের মতে, বকেয়া দাবি থাকা অবস্থায় নতুন ব্যবসা বাড়ালে কমিশন ও অন্যান্য অর্জন ব্যয় বাড়বে। এতে বিদ্যমান গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইডিআরএতে পাঠানো ২৮ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের চিঠিতে প্রগ্রেসিভ লাইফ জানিয়েছে, পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুসারে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার সরকারি ট্রেজারি বন্ড মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। পাশাপাশি ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার পোর্টফোলিও লোকসানে বিক্রি করায় ক্ষতি হয়েছে আরও ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে লোকসানের পরিমাণ ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আমিন চিঠিতে বলেন, মেয়াদপূর্তির আগে বারবার বন্ড নগদায়ন করলে মূলধনি লোকসান আরও বাড়বে। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আরও ১০ কোটি টাকার বন্ড নগদায়নের জন্য পর্ষদের অনুমোদন, ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ট্রেজারি বন্ড থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ৩ হাজার ৪৯০ জন গ্রাহককে ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪ হাজার ৪৫২ টাকা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্ডের অর্থ ছাড়াই আরও ২১৫ জন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৮৩১ টাকা। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৭০৫ জন গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
বন্ড নগদায়নে লোকসান এড়াতে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজেদের মালিকানাধীন ৮ দশমিক ৫৪ কাঠা জমি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। এ বিষয়ে আইডিআরএর নীতিগত অনুমোদনও পেয়েছে তারা।
২৮ অক্টোবরের চিঠিতে কোম্পানি জানায়, জমিটি বিক্রি করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে। পুরো অর্থই গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। তবে ক্রেতার অর্থের সংস্থান, তিন সদস্যের বিক্রয় কমিটির অনুমোদন এবং বায়া দলিল ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে আরও এক মাস সময় প্রয়োজন।
প্রগ্রেসিভ লাইফের সিইও সাইদুল আমিন বলেন, আইডিআরএর সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জমি বিক্রি ও তহবিল সংস্থানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৫ কোটি টাকা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ব্যবসা শুরুর অনুমতি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এএইচ/পিএস