ঢাকা: ঢাকা কলেজর উন্মুক্ত স্থান যেন নোংরা ময়লা-আবর্জনার ভাগারে পরিণত হয়েছে। এমন চিত্র দেখা গেছে ঢাকা কলেজের আবাসিক হল পাড়া ও হল মাঠ এলাকায়। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটা যেন ময়লার ভাগার।
এসব আবর্জনা পরিষ্কার করা হলেও সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে না রেখে হলের খেলার মাঠের পাশের উন্মুক্ত স্থানে জমা করে রাখা হচ্ছে। এতে কিছু সময় পর আবারও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। অনেক সময় এই আবর্জনায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে বায়ু দূষিত হয়, এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, সৌন্দর্য হারাচ্ছে কলেজ। একইসঙ্গে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে ঢাকা কলেজ ঘুরে দেখা যায়, মূল একাডেমিক এলাকা বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলেও পেছনের আবাসিক ছাত্রাবাস ও কর্মচারী কোয়ার্টার এলাকার অবস্থা করুণ।
এছাড়াও ক্যাফেটেরিয়া, পুকুরপাড়, খেলার মাঠ, মসজিদ, বকুলতলাসহ অন্যান্য জায়গায়ও চোখ ফেরালেই দেখা যায়- খালি বোতল, কাগজ, টিস্যু, চায়ের কাপ, পলিথিন, প্লাস্টিক। এই পুরো আবাসিক এলাকা ছাত্রাবাস ও কর্মচারী কোয়ার্টার থাকলেও একটি ডাস্টবিন বা ময়লার ঝুড়ি নেই।
ঢাকা কলেজের দক্ষিণয়ান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম জিহাদ ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা কলেজ মানেই আমাদের হাজারো শিক্ষার্থীর আবেগ আর ঐতিহ্যের ঠিকানা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং হলপাড়ায় বর্তমানে পা ফেলার জায়গা নেই। মাঠের চারদিকে তাকালে সবুজের চেয়ে সাদা টিস্যু, প্লাস্টিক বোতল আর চিপসের প্যাকেটই বেশি চোখে পড়ে।
কেন এই অবস্থা? এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো- পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাব। মাঠে বা হলের সামনে নির্দিষ্ট কোনো ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলছে। ফলে সামান্য বাতাসেই এই ময়লা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ছে।
একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রশাসনের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে,কেন্দ্রীয় মাঠের চারপাশে পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হোক। ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হোক।
ঢাকা কলেজের উত্তর ছাত্রাবাসের আরেক শিক্ষার্থী মিরাজ ইবনে রহমান বলেন, ঢাকা কলেজ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিন্তু এখানে আসলে মনে হয়, এটা যেন কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো জনপদ। প্রচুর পরিমাণ ময়লা আবর্জনায় পরিণত হয়েছে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা।
এখানে ময়লা ফেলার তেমন কোনো ডাস্টবিন নেই, বিশেষ করে এই নোংরা আবর্জনার জন্য, মশা মাছির উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে। আমরা যারা হলের নিচ তলায় থাকি ময়লার দুর্গন্ধের কারণে রুমে থাকতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। কখনো যদি বৃষ্টি হয় তাহলে এই সমস্যা আরো বৃদ্ধি পায়।
আন্তর্জাতিক হল, আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস হল ও উত্তর হলের আশেপাশে যে ড্রেনগুলো রয়েছে সেগুলো খুব বেশি পরিষ্কার করা হয় না। তাই কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই তারা যেন আবাসিক হল পাড়ায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন করে ও নিয়মিত নোংরা ময়লা আবর্জনা কর্মচারীদের মাধ্যমে অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসের হল প্রোভোস্ট প্রফেসর নাজমুল হুসাইন নয়ন বলেন,ময়লা আবর্জনামুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে হলে, অবশ্যই ডাস্টবিন থাকতে হবে, ডাস্টবিন হচ্ছে এমন একটি জিনিস, যেখানে ময়লা ফেললে বাকি জায়গা নোংরা হবে না, তাই ডাস্টবিনের দরকার রয়েছে। প্রত্যেকটি হলের জন্য যেমন ডাস্টবিন রয়েছে, তেমনি ক্যাম্পাস ভিত্তিক যে ডাস্টবিন সেটা আমার চোখেও কম পড়েছে।
আমাদের অধ্যক্ষ স্যার অত্যন্ত আন্তরিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ও পরিবেশ সচেতন মানুষ, আমি আশা করি তার মাধ্যমে অনেক কিছুই হয়েছে-হচ্ছে সামনেও হবে, তিনি দিক নির্দেশনা দিলেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের হল প্রোভোস্টদের সভাপতি প্রফেসর আনোয়ার মাহমুদ বলেন, আমরাও লক্ষ্য করেছি, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আমরা অতি দ্রুত আবাসিক হল পাড়াসহ যেখানে ময়লা ফেলা হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ডাস্টবিনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিএস