ঘোষণার ১২ দিনের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন–এর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান।
তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ গ্রহণ করলেই নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ পদে নিয়োগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্য হিসেবে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এই শিক্ষক বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–র উপদেষ্টা এবং দলটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সভাপতিও ছিলেন।
আলোচনায় রয়েছেন অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, যিনি আগে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন এবং বর্তমানে ইউট্যাবের সভাপতি। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।
এ ছাড়া সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। মোর্শেদ হাসান খান ইউট্যাবের মহাসচিব এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নিয়াজ আহমদ খান বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং দায়িত্বের একটি পর্যায়ে এসে তিনি সরে দাঁড়াতে চান। একই সঙ্গে ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রয়োজন হলে কিছু সময় দায়িত্বে থাকার বিষয়েও তিনি নমনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন।
সেই ঘোষণার ১২ দিনের মাথায় আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন। বিদায়ী শুভেচ্ছা হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া ফুলের তোড়ায় তার নাম উল্লেখ ছিল।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এসএইচ