বিতর্কের আড়ালে জামায়াত ও আমান আযমীর মূল্যায়ন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ফাইল ছবি

রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বাক্যের খণ্ডিত ব্যবহার নতুন নয়। সম্প্রতি জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমীর একটি বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, এখনকার জামায়াত তাঁর বাবা গোলাম আযমের জামায়াতের মতো নয়। বিরোধী বা সেক্যুলার গোষ্ঠী এই অংশটি আঁকড়ে ধরে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলেও, বক্তব্যের মূল সুর সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে।

একই বক্তব্যে আমান আযমী স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান বাংলাদেশে সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জামায়াতের চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প দল নেই। সমালোচকরা সেই চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে সুবিধা মতো আংশিক কথা প্রচার করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, একটি সংগঠনের পরিধি বাড়লে তাতে কিছুটা শিথিলতা বা দুর্বলতা আসা স্বাভাবিক। ইসলামী ইতিহাসেও এমন দৃষ্টান্ত মেলে। হযরত আলী (রা.)-এর শাসনামলে যখন অতীতের সাথে তুলনা করা হতো, তখন তিনি সহজ সত্যটি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন প্রজার মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের কথা বলে।

জামায়াত এখন বিশাল আকারের এক দল, যার জনশক্তি ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। এই বড় পরিসরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘাটতি থাকা অসম্ভব নয়, যা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা দলটি সবসময় করে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে মানদণ্ড নিয়ে।

যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপরাধের প্রশ্রয় বা বিতর্কিত নেতৃত্বের অভিযোগ রয়েছে, তারা যখন নৈতিকতার শিক্ষা দিতে আসে, তখন সেই সমালোচনা গুরুত্ব হারায়। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত জামায়াতের শীর্ষ কাঠামোর পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ইসলামী রাজনীতিতে অন্য রকম এক অবস্থান তৈরি করেছে।

পরিশেষে স্মরণ করা যায় রাজনীতির মাঠের এক চতুর উত্তর। একদা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এক বাকযুদ্ধ চলাকালে চৌধুরী সাহেব সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ বা নির্দিষ্ট বিষয়ের সমালোচনা কেবল সংশ্লিষ্টদের সাজে, অনাহুতদের নাক গলানো স্রেফ হাস্যকর। জামায়াতের যেকোনো ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব দিনশেষে তাদের নিজেদের এবং ইসলামী কাঠামোর সমর্থকদেরই।

এসএইচ