প্রস্তুতির অভাবে ভয়ংকর হতে পারে ডেঙ্গু

  • লাইজুল ইসলাম | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৩, ০৯:৪২ পিএম

ঢাকা: হাসপাতালে দিনদিন বাড়ছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা।এতে চিন্তার ভাজ চিকিৎসকদের কপালে। কিন্তু রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন শুধু কথার ফুলঝুড়িই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এখনো তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলেই অভিযোগ রাজধানীর বাসিন্দাদের। 

কীটতত্ববিদরা বলছেন, আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়নি তাই এখনই রোগী বাড়তে শুরু করেছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

গত চার দিনের চিত্র দেখলেই বোঝা যায় কিভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। যেখানে গত চার দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৪ জন। আর এই চারদিনে মারা গেছেন ৩ জন। যেখানে মে মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক হাজার ৩৬ জন। আর মৃত্যু হয়েছিলো দুই জনের। এই হিসেব দেখেই চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন জুন মাসে হয়তো আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন, এডিস মশার বিস্তার কমাতে প্রথমে সচেতনতা চালানো হবে। যদি এরপরও রাজধানীবাসী বাসাবাড়ি পরিষ্কার না রাখেন তবে জরিমানা করা হবে। এবার শঙ্কা বেশি হওয়ায় যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে এডিস মশা নিধনে কাজ করা হবে। 

মেয়র তাপস জানান, ১৫ জুন থেকে ডেঙ্গু নিধনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানের মেয়াদ হবে চার মাস। এর আগে এই অভিযান হতো তিন মাসব্যাপী। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিস্তৃত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণে নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট দুই জন। অভিযানের জন্য অতিরিক্ত ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মশা নিধন কার্যক্রমে জোর দেওয়া হবে বলে জানান মেয়র তাপস।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেলিম রেজা এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমরা নিজেরাই এডিস মশার লার্ভার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করি। বাসা বাড়িতে ও ছাদবাগানে পানি জমিয়ে রেখে লার্ভা সৃষ্টি করছি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের পক্ষে বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে এসব লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব হয় না। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আমরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ডিএনসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আজ থেকে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ মশক নিধন অভিযান চলবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অভিযানে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে সেলিম রেজা বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে আমরা ডিএনসিসির কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিএনসিসি ও স্কাউটকে যুক্ত করেছি। ডিএনসিসির বিভিন্ন অঞ্চলে ৪০০ মিটার থেকে ৪০০ মিটার গ্রিডে ভাগ করে এই সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমি বিশ্বাস করি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

কীটতত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবীরুল বাশার সোনালীনিউজকে বলেন, আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পরেছি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে শুরু করেছে। হালকা বৃষ্টি হলে আবার বাড়বে ডেঙ্গু। প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে সবার মধ্যেই। এই ঘাটতি যদি আরো দীর্ঘায়িত হয় তবে রোগী বাড়বে সঙ্গে মৃত্যুও। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ সোনালনিউজকে বলেন, ‘চলতি বছরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। সাদা দাগযুক্ত এডিস মশা ডেঙ্গুর জন্য দায়ী। এই মশাকে চিনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। কিন্তু এবার মে মাসেই সর্বাধিক ডেঙ্গু রোগী সারাদেশ শনাক্ত হয়েছে। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রথম দিনেই ডেঙ্গু পরীক্ষা এনএস ওয়ান পরীক্ষা করাতে হবে। শনাক্ত হলে এন্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল জাতীয় খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।’

সোনালীনিউজ/এলআই/আইএ