সম্প্রতি দেশে শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং টিকা না নিলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
হামের প্রধান লক্ষণ
হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা যায়—
১. উচ্চ জ্বর ও অবিরাম কাশি
২. নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া
৩. জ্বরের ৩–৪ দিনের মধ্যে মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া
কেন হামকে গুরুত্ব দিতে হবে
চিকিৎসকদের মতে, হাম শুধু সাধারণ ভাইরাল জ্বর নয়; এটি সাময়িকভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। ফলে শিশুরা নানা জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারে—
শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা: নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট
পাচনতন্ত্রের জটিলতা: তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা
কান ও মুখের সমস্যা: কানপাকা ও মুখে ঘা
দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি: ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থেকে রাতকানা বা অন্ধত্ব
মস্তিষ্কের জটিলতা: বিরল ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ)
টিকা: সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা
বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়—
প্রথম ডোজ: ৯ মাস বয়সে
দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিশু টিকা পেলেও এখনও কিছু শিশু টিকাবঞ্চিত বা অসম্পূর্ণ ডোজ নিয়েছে—যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
অভিভাবকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
* শিশুর জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন আলাদা রাখুন
* দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
* চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ভিটামিন এ খাওয়ান
* শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, বারবার বমি বা চোখের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, সময়মতো টিকা দেওয়া ও সচেতনতা বাড়ানোই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এম