ইডিসিএলের নতুন রূপরেখা: টিকা উৎপাদনে আসছে বড় মাইলফলক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) পরিদর্শন করেছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা কারখানা তিনি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। গত ২৮ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন।

পরিদর্শনকালে মহাপরিচালকের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আঃ সামাদ মৃধা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন ও পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শনের সময় মহাপরিচালক কারখানার উৎপাদন ইউনিট, মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। তিনি ওষুধ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নেন। বিশেষ করে মান নিয়ন্ত্রণে উন্নত পরীক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন মহাপরিচালক। প্রথমত, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তৃতীয়ত, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মো. আলমগীর হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ প্রস্তুতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

পরিদর্শনকালে ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আঃ সামাদ মৃধা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা কারখানার পাশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত জমিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে একটি অত্যাধুনিক বহুতল কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ কারখানায় সাপের বিষ প্রতিষেধকসহ বিভিন্ন টিকা উৎপাদনের জন্য পৃথক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে হাম-রুবেলা, জলাতঙ্ক ও ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকার শেষ ধাপের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া কারখানায় উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং খুলনা কারখানায় মোড়ক তৈরির পৃথক স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ওষুধের চাহিদা মেটানো ও মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসএইচ