দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে ৫ হাজার নতুন পদ সৃজনের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জনকে ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের তৃণমূল মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি জেলা সদরের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের এসব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অধ্যয়নরত থাকেন এবং অনেক চিকিৎসক অবসরে যান। ফলে উপজেলা, জেলা হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এই সংকটকালীন প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জন্য নিবিড় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারে মোট ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের তথ্য বলছে, গত ১১ জুন এই ৫ হাজার পদ সৃজনের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি চিঠি পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। চিঠিতে গত ১৪ জুনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সজীব আহমেদ জানান, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পদ সৃজনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তারা এখনো চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি পেলে পরবর্তীতে তা দ্রুত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে তারা পদ সৃজনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পদ সৃজন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ শেষ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পদ সৃজনের কার্যক্রম একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকাল বুধবার অথবা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই পদ সৃজনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে বিশেষ বিসিএসের কার্যক্রম শুরুর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম জানান, চিকিৎসক নিয়োগে বিশেষ বিসিএস নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলেই এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএইচ