ইরানে সীমিত আকারে হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ১১:২০ এএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে আসার জন্য দেশটির নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সীমিত আকারে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে কোনো চুক্তি হচ্ছে নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। 

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এলো।

এদিকে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান। 

তবে আলোচনার সমান্তরালে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কিছু ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ওই এলাকার অভিমুখে মোতায়েন করা হয়েছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকে বিপজ্জনক সামরিক তৎপরতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প প্রায়ই বলে থাকেন যে তিনি তার পরবর্তী পদক্ষেপ গোপন রাখতে পছন্দ করেন যাতে প্রতিপক্ষ আগে থেকে কিছু বুঝতে না পারে। এর আগেও 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর সময় আলোচনার কথা বলে হঠাৎ সামরিক অভিযান চালিয়েছিল তার প্রশাসন। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিবাসন ও অর্থনীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে থাকা ট্রাম্পের জন্য ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তার 'মাগা' সমর্থক গোষ্ঠী, যারা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধী, তাদের মধ্যে এটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

এসআই