ইরানে নিহত হাজার ছাড়াল, পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ১০:৩২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পঞ্চম দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। ইরানের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর পর দেশটি পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।

বুধবার রাজধানী তেহরানসহ পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার শুরু হওয়া এ অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি। আহতদের মধ্যে প্রায় ৩০০ শিশু ও কিশোর রয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, হামলায় কিছু আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক সংগঠন বাসিজের ঘাঁটি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তাদের ১৯তম দফার হামলা শুরু করেছে। ‘ট্রু প্রমিজ-৪’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি দুটি স্থাপনায় ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় উপাদানে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিকিরণের ঝুঁকিও নেই।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার জানাজার প্রস্তুতি চলছে। গত শনিবার এক হামলায় তিনি নিহত হন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়েও তেহরানে আলোচনা চলছে। প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি জানিয়েছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের মতে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরানের যে নেতা ইসরায়েল ধ্বংসের হুমকি দেবেন, তাকেও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতৃত্ব বর্তমানে বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন শক্ত অবস্থানে আছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে কোনো হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে গত কয়েক দিনে প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরান ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সূত্র : আল-জাজিরা।

এম