মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং কখন এই সংঘাত শেষ হতে পারে। তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা আসছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য কেবল সামরিক হামলা নয়; বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে। তার মতে, এতে ভবিষ্যতে একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ইরান’ গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা কিছুটা ভিন্ন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়াতে চায় কি না—সে প্রশ্ন এখনও স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করার জন্য এটিকে ‘জীবনের সেরা সুযোগ’ হিসেবে দেখছে তেল আবিব। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন এই অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে, ততদিন ইসরায়েলের উচিত ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতায় সর্বোচ্চ ক্ষতি করা।
অন্যদিকে তেহরান ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা মূলত ইরানই নির্ধারণ করবে এবং দেশটির সামরিক বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলার পরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।
পাল্টা হামলার বিষয়ে ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আরও উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, ইসরায়েল কোনো ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না এবং যুদ্ধ শেষ করার সময় নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তবে সংঘাত কখন শেষ হতে পারে—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইতে পারে যেখানে ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল দেখিয়ে তারা বিজয় দাবি করে যুদ্ধ থেকে সরে আসবে।
তবে তার মতে, তেহরান সহজে সেই সুযোগ দেবে না। বরং উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই ইরানের হাতে রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা