খার্গ দ্বীপ, সেনা মোতায়েন, হুতির প্রস্তুতি ইরান যুদ্ধে নতুন মোড়

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে নতুন মোড় এসেছে, যখন হুতি বিদ্রোহীরা ইরানের পক্ষ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার কথাও উত্থাপন করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই শান্তি কথন মূলত সময় অর্জনের কৌশল, যাতে প্রয়োজন হলে খার্গ দ্বীপ দখলের জন্য স্থল বাহিনী পাঠানো যায়।

খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের অপরিশোধিত তেলের মূল কেন্দ্র, হরমুজ প্রণালির প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ সীমিত করতে এবং তেলের বাজারে প্রভাব বিস্তারের জন্য খার্গ দ্বীপ দখলের দিকে নজর দিচ্ছেন।

৩০ বছরের আগের পরিকল্পনা বাস্তবে?

ট্রাম্প প্রথমবার খার্গ দ্বীপ দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ১৯৮৮ সালে, এক ব্যবসায়ী হিসেবে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেছিলেন, যদি সুযোগ আসে, তিনি ইরানের তেল পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে দ্বীপটি দখল করবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সেই প্রস্তাবিত কৌশল বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সম্ভাব্য অভিযান ও কৌশল

রয়টার্স এবং দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য স্থল অভিযান পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে প্যারাট্রুপার সৈন্য বিমানঘাঁটি দখল করবে। এরপর মেরিন সেনা ও সরঞ্জাম উপকূল ও দ্বীপের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হবে। বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমানের সাহায্যে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই অভিযান যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এবং যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

হুতির প্রস্তুতি: ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানের সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। এই জলপথ দিয়ে ইউরোপের দিকে তেলের ১২ শতাংশ পরিবহন হয়। হুতিদের যুদ্ধ প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যে কোনো যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান হলে ইরান তাদের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিতে পারে। ফলে খার্গ দ্বীপের ওপর মার্কিন অভিযান শুধু যুদ্ধকে নয়, বরং তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খার্গ দ্বীপ দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক এবং সামরিকভাবে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে এবং তেলের বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশসহ তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এই সংঘাতের ফলে সরাসরি প্রভাব দেখতে পেতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

এম