ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: কী আলোচনা হবে, কারা থাকছেন

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এবার কূটনৈতিক টেবিলে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনী। পাল্টা হামলায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে, প্রাণহানি ঘটে হাজারো মানুষের। সেই প্রেক্ষাপটেই এখন আলোচনার টেবিলে বসছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি।

কোথায় ও কখন বৈঠক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফেরর আমন্ত্রণে সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে এই বৈঠক। শহরের কূটনৈতিক এলাকা রেড জোনে অবস্থিত ইসলামাবাদের হোটেল সেরেনায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা। নিরাপত্তার কারণে হোটেলটি কয়েকদিনের জন্য সম্পূর্ণ খালি করা হয়েছে এবং রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কারা থাকছেন আলোচনায়

মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভেন্সি। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্টমোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আলোচনার প্রেক্ষাপট

যুদ্ধের সময় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়ে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং শর্ত নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেই সমঝোতা এখন ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।

কী কী বিষয় আলোচনায়

ইরান ইতোমধ্যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—

১. হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার
২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
৩. মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা বন্ধ

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক— যা ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান শর্ত। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেনি।

বড় বাধা কোথায়

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় বাধা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং লেবানন ইস্যু। ইরান সতর্ক করেছে—ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, লেবানন এই চুক্তির আওতায় পড়ে না।

কী হতে পারে ফলাফল

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বড় সমঝোতা আসার সম্ভাবনা কম। তবে আংশিক অগ্রগতি হতে পারে—বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে।

সব মিলিয়ে, এই বৈঠককে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুদ্ধের পর এখন নজর কূটনীতির মঞ্চে, আর সেই মঞ্চেই নির্ধারিত হতে পারে ভবিষ্যৎ সংঘাতের গতি।

এম