যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যে বার্তা দিলো পাকিস্তান

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পরও কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চরম উত্তেজনা আর পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক শেষ হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান উভয় পক্ষকে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।

[268831]

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দুই দেশের পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনার ইতিবাচক ধারাটি অব্যাহত রাখবে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা কয়েক দফার নিবিড় ও গঠনমূলক আলোচনায় তিনি নিজে এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সরাসরি মধ্যস্থতা করেছেন। সংলাপে কোনো চূড়ান্ত দলিলে স্বাক্ষর না হলেও পাকিস্তান ভবিষ্যতেও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও জানানো হয়, “যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করায় আমি উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।” পাকিস্তান মনে করে, এক বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান না হলেও সরাসরি সংলাপের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করেছে।

ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সবলেন, “খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।” মূলত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রশ্নে ইরানের অনমনীয়তাকেই দায়ী করেছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কিছুটা ভিন্ন সুর শুনিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে, তবে এখনও ২–৩টি মৌলিক ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তার মতে, ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর তৈরি হওয়া চরম অবিশ্বাসের পরিবেশে এক বৈঠকেই সব মিটে যাবে—এমন আশা করা স্বাভাবিক ছিল না।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে উত্তেজনা প্রশমনে গত ৭ এপ্রিল থেকে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

এসআই