মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘিরে এক সপ্তাহজুড়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। কখনো সমঝোতার ইঙ্গিত, কখনো আবার পাল্টাপাল্টি হামলা—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে পরিস্থিতি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ছয় দফা ওঠানামা করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
গত শুক্রবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনার জন্ম দিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় অগ্রগতির খবর যেমন এসেছে, তেমনি হরমুজ প্রণালিতে সংঘর্ষের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আবার উত্তপ্ত করেছে।
১ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার বিশেষ ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ থামানোর চাপ বাড়ে। একইদিন ইরান শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানালেও ট্রাম্প সেই প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পেন্টাগনের সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাও তখন নতুন জল্পনার জন্ম দেয়।
পরদিন ট্রাম্পের বক্তব্যে হরমুজ ইস্যু নতুন মাত্রা পায়। ইরানের একটি জাহাজ দখলের ঘটনা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। এতে বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। যদিও ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়।
৪ মে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌকা ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করলে পাল্টা তা অস্বীকার করে তেহরান। একইদিন ট্রাম্প হরমুজে হামলা হলে ইরানি বাহিনীকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরই তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়।
৫ মে মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকেই আসে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। একদিকে সফল অভিযান দাবি করা হয়, অন্যদিকে ইরানের হামলার তথ্য তুলে ধরা হয়। পরে হঠাৎ করেই ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দেন এবং শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানান। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার কমে যায়।
৬ মে নতুন করে আলোচনায় আসে এক পৃষ্ঠার সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে, দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে একইদিন উত্তেজনা আবার বাড়ে, যখন মার্কিন বাহিনী ইরানি পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে গুলি চালায়। ফলে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের অসন্তোষ এবং হরমুজ প্রণালিতে গোলাগুলির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার খবরে প্রথমে তেলের দাম কমলেও পরে সংঘর্ষের কারণে আবার তা বেড়ে যায়। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, ছোটখাটো সংঘর্ষ হলেও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। আলোচনার অগ্রগতির পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
এম