ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বুধবার (২৭ মে) স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৮.৪৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ১.৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৪৬.২০ ডলারে।
মঙ্গলবার ইরান অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে চলমান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো হচ্ছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
মিনিয়াপোলিস ফেড প্রেসিডেন্ট নীল কাশকারি বলেছেন, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় ফেডকে সতর্ক থাকতে হবে। যদিও এখনই পরবর্তী সুদের হার পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচারস (PCE) তথ্যের দিকে, যা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে। এই তথ্য ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে, জার্মান ব্যাংক কমার্জব্যাংক জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমে আসে, তবে বছরের শেষ দিকে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভার ৩.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪.৩৮ ডলারে, প্লাটিনাম ১.৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯২১.০৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ০.৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৮৫.০৩ ডলারে নেমে এসেছে।
পিএস