ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ফলন (ইয়িল্ড) কমে যাওয়া এবং তেলের দাম দুর্বল হওয়ায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কমেছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১ শতাংশ বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সোনার দাম ১% বেড়ে ৪ হাজার ৫২৮.৬৭ ডলারে পৌঁছায়। আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ১.২% বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৮.৬০ ডলারে ওঠে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। এর পর তেলের দাম কমে যায়। জ্বালানির দাম কমলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ হ্রাস পায় এবং সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন ধারণাও দুর্বল হয়।
যদিও সোনা ঐতিহ্যগতভাবে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ (হেজ) হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এটি তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে, কারণ সোনা কোনো সুদ বা আয় প্রদান করে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের ফলন ১.১% কমেছে, ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধারণের সুযোগব্যয়ও কমে গেছে।
সোনার দামে আরও সহায়তা দিয়েছে লেবাননের ঘোষণা করা আংশিক যুদ্ধবিরতি। সোমবার দেশটি হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির কথা জানায়, যা হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এবং ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতকে উসকে দেওয়া সংঘর্ষের সীমিত উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দেয়।
বিনিয়োগকারীরা এখন মে মাসের যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পেরোলস (কৃষি বহির্ভূত কর্মসংস্থান) প্রতিবেদনটির অপেক্ষায় রয়েছেন, যা শুক্রবার প্রকাশিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগের মধ্যে শ্রমবাজার কতটা শক্তিশালী রয়েছে, তা মূল্যায়নের জন্য এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সোনার সাথে অন্যান্য মূল্যবান ধাতু যেমন রুপার দাম ২.১% বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ১.৪% বেড়ে ১ হাজার ৯৫০.৯৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ১.৩% বেড়ে ১ হাজার ৩৭৯.৭৭ ডলারে উঠেছে।
পিএস