স্বাধিকারের আড়ালে বেলুচিস্তান সংঘাতের নেপথ্যে কাহিনী!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
ফাইল ছবি

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং আয়তনের দিক থেকে দেশটির সর্ববৃহৎ প্রদেশ বেলুচিস্তান বিগত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতের এক উত্তপ্ত ময়দানে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এই অঞ্চলটি দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ও অনগ্রসর অংশ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে বেলুচিস্তানের ভুয়া স্বাধীনতা ঘোষণার খবর ছড়ানোর পর এই অঞ্চলের কৌশলগত ও নিরাপত্তা সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই সংকটকে মূলত একটি জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং বিদেশি শক্তির সহায়তায় পরিচালিত রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতা হিসেবে দেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কালাত রাজ্যের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী একে জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্তি হিসেবে প্রচার করে সশস্ত্র বিদ্রোহের পথ বেছে নেয়।

সময়ের সাথে সাথে এই উপজাতীয় ক্ষোভ আধুনিক বিচ্ছিন্নতাবাদে রূপ নিয়েছে। জুলফিকার আলী ভুট্টোর শাসনামলে উত্থান হওয়া বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পরবর্তীতে পারভেজ মোশাররফের সামরিক অভিযানের পর আরও সহিংস হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিএলএ ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।

ইসলামাবাদের দাবি, বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদ কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়, বরং এটি প্রতিবেশী দেশের মদদপুষ্ট একটি ছায়াযুদ্ধ। পাকিস্তান সরকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্প ব্যাহত করতে চীনা প্রকৌশলীদের ওপর হামলার পেছনেও বহিরাগত ষড়যন্ত্র দেখছে।

তবে সংকট সমাধানে পাকিস্তান সরকার সামরিক পন্থার পাশাপাশি সাংবিধানিক সংস্কার, অর্থনৈতিক প্যাকেজ এবং স্থানীয় যুবকদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে অনড় থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কঠোর হস্তে দমন করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমেই বেলুচিস্তানের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায় ইসলামাবাদ।

এসএইচ