ইরানে টানা বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাজধানীজুড়ে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

  • আন্তর্জাতক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সময় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে সেখানে সক্রিয় করা হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একই সময়ে দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক সামরিক স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা সম্পন্ন হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান যে হুমকি তৈরি করছে, তা আরও দুর্বল করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা ফার্স।

ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায়ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এতে শহরের বাইরের একটি সামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে শহরের ভেতরে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।

সাম্প্রতিক দফার হামলায় যুক্তরাষ্ট্র মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছিল। তবে তাবরিজ ও তেহরানে হামলা সেই ধারার বাইরে নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান একাধিকবার কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।

এসময় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন হেগসেথ।

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন অসফ অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার বিষয়ে হেগসেথকে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, আগে হেগসেথ দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তাহলে এখন অতিরিক্ত অর্থ কেন প্রয়োজন?

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামে সন্দেহভাজন একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় তিনি ‘খুব শিগগিরই’ এবং ‘অত্যন্ত জোরালোভাবে’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের এ হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

এম