হঠাৎ ‘র’ বাংলাদেশে কেন?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
ফাইল ছবি

ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-হঠাৎ কেন ঢাকায় ভারতের প্রভাবশালী বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর প্রধান পরাগ জৈন? চীন সফর শেষে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে তাঁর এই ঝটিকা সফর কোনো সাধারণ কূটনৈতিক আদান-প্রদান নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিল সমীকরণ এবং সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটানোর এক নীরব প্রয়াস।

এমনিতে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক উপস্থিতি ও বক্তব্য ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ঠিক এই সংবেদনশীল সময়েই বাংলাদেশের ডিজিএফআইয়ের আমন্ত্রণে ঢাকায় পা রাখেন ‘র’ প্রধান। রাজনৈতিক রূপান্তরের পর দুই দেশের গোয়েন্দা ও নীতিনির্ধারণী স্তরে সরাসরি যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করাই এই সফরের বড় উদ্দেশ্য। আলোচনার টেবিলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং নিরাপত্তা ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারত চাচ্ছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী যাতে আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদে স্বদেশে ফিরতে পারেন, আর অন্যদিকে ঢাকা অনড় তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে।

একই দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর গভীর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক সফরটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। হাইকমিশনারের কণ্ঠে মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বপ্নের বাণী একদিকে যেমন ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ‘র’ প্রধানের সফর সামাল দিচ্ছে পর্দার আড়ালের সামরিক ও কৌশলগত সমীকরণ। বিশেষ করে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের নব্য সামরিক অক্ষ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুতে দিল্লি অত্যন্ত সতর্ক। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলোতে ঢাকার সহযোগিতা দিল্লির জন্য অপরিহার্য।

প্রথাগত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে গোয়েন্দা প্রধানের এই গোপন উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে, বাংলাদেশ কেবল এক প্রতিবেশী নয়, ভারতের সার্বিক নিরাপত্তা অক্ষের মূল নিয়ামক। প্রকাশ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন পেছনে ফেলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে একটি নতুন জয়-জয় পরিস্থিতি তৈরিতেই এই পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, পর্দার আড়ালের এই কৌশলগত বৈঠকগুলো দুই দেশের বরফ জমা সম্পর্কে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া আনে।

এসএইচ