ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের লাফ দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) স্পট গোল্ডের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৬৭৭.১৪ ডলারে পৌঁছেছে। যা ১৪ মে’র পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৩৪.৭০ ডলারে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সাম্প্রতিক বন্ড পুনঃক্রয় পরিকল্পনা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান সোনার দাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, সোনার বাজারে বর্তমানে মৌলিক ও প্রযুক্তিগত—দুই দিক থেকেই ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্ডের ফলনও কিছুটা কমেছে, যা সোনার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে গত সপ্তাহে সোনা তার ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের ওপরে উঠে যাওয়ায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী গতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি সোনা-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলোতে (ETF) বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রবাহিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এসব ETF-এ ৪৬.৭ মেট্রিক টন বা প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে, যা ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক প্রবাহ।
বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে। বুধবার প্রকাশিত হবে ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতির সূচক Personal Consumption Expenditure (PCE) price index। এছাড়া শুক্রবার জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্য থেকেও সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় কোনো নেতিবাচক প্রযুক্তিগত সংকেত না এলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৬৯.৫২ ডলার, প্লাটিনাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯১.৪৩ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৫৯.৪১ ডলারে উঠেছে।
পিএস