পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বেলজিয়ান-আমেরিকান কণা পদার্থবিদ ফ্রান্সিস হালজেন মহাবিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ কণাগুলোর একটি—উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো—শনাক্ত করার জন্য একটি মানমন্দির তৈরির যুগান্তকারী কাজ এবং এগুলো কীভাবে সৃষ্টি হয় তা বোঝার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

হালজেন উপলব্ধি করেছিলেন যে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব। নিউট্রিনোকে কখনও কখনও ‘ভূতুড়ে কণা’ বলা হয়, কারণ এগুলো কোনো চিহ্ন না রেখে পৃথিবী ও আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে চলে যায় এবং অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রেই পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে।

অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত আইসকিউব (IceCube) মানমন্দিরে সংগৃহীত নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়াগুলো গবেষকদের উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কীভাবে সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান দিচ্ছে এবং সম্ভবত আগে অজানা মহাজাগতিক ঘটনাও প্রকাশ করতে পারে বলে নোবেল কমিটি জানিয়েছে।

“ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা আমাদের একটি অসাধারণ যন্ত্র দিয়েছেন,” নোবেল কমিটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ার মার্ক পিয়ার্স এক বিবৃতিতে বলেন।

“তাঁর অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।”

২০১৪ সালে মার্কিন সাময়িকী স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন হালজেনকে তার ‘ইনজেনুইটি অ্যাওয়ার্ডস’ দেওয়ার সময় ‘নিউট্রিনো ম্যান’ নামে অভিহিত করেছিল। তারা তাঁর “অসাধারণ পরীক্ষা (যা) জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করছে”—এই বলে প্রশংসা করেছিল।

সাময়িকীটি এমনকি তাঁর জীবন নিয়ে একটি কমিকও প্রকাশ করেছিল: “একজন পদার্থবিদের মহাবিশ্ব অনুসরণের যাত্রা কীভাবে অ্যান্টার্কটিকায় পৌঁছাল।”

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস নির্বাচিত করে এবং তারা মোট ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (১২ লাখ মার্কিন ডলার) পুরস্কার পান। একাধিক বিজয়ী থাকলে এই অর্থ তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

সুইডিশ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর সম্পদের একটি অংশ ডিনামাইট আবিষ্কারের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। ১৯০১ সালে প্রথমবার পুরস্কার দেওয়ার পর থেকে এই পুরস্কার বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তির ক্ষেত্রে অসামান্য অর্জনকে সম্মান জানিয়ে আসছে। পরে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতির পুরস্কারটি যুক্ত করে।

পিএস