স্বর্ণের দাম কমেছে, শক্তিশালী অবস্থানে ডলার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের দাম ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বেড়েছে। এতে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় চাপে পড়েছে স্বর্ণের বাজার।

শনিবার (নিউইয়র্ক সময়) দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৪.৩৬ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৩৩.২৯ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৪.৯০ ডলারে স্থির হয়।

তবে দাম কমলেও পুরো সপ্তাহের হিসাবে স্বর্ণের বাজার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এতে আগস্টের পর সবচেয়ে ভালো সাপ্তাহিক পারফরম্যান্সের পথে রয়েছে স্বর্ণ।

মার্কিন ডলারের মূল্য ০.৭ শতাংশ বেড়ে ২৯ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফাও বেড়েছে। ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের কারণে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করেছিল। তবে পরে দাম কিছুটা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছে। তার মতে, এ সপ্তাহের স্বর্ণবাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি খাতের বাইরের কর্মসংস্থান (নন-ফার্ম পেরোল) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। একই সময়ে দেশটির বেকারত্বের হার কমে ৪.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কর্মসংস্থানের ইতিবাচক তথ্যের পর ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও বেড়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ সম্ভাবনা ছিল ৭২.৮ শতাংশ, যা পরে বেড়ে ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। এ কারণেই ডলার ও বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধির সঙ্গে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এ সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পথে রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে ভৌত স্বর্ণের বাজারে দাম কমায় ভারতে খুচরা ক্রেতাদের কেনাকাটা বেড়েছে। দীপাবলি উৎসব সামনে রেখে দেশটির ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে স্বর্ণ কেনার সুযোগ নিচ্ছেন। এর আগে গত ৩০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮৬৯.৮৫ ডলারে নেমেছিল, যা এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে শুক্রবার স্পট রুপার দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫২.১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৪১.৪২ ডলার হয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৪.৫৯ ডলারে নেমেছে। সপ্তাহের হিসাবে অবশ্য তিনটি ধাতুই মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে।

পিএস