প্রেরণার ডিসেম্বর শুরু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২০, ১২:০১ এএম

ঢাকা : প্রতীক্ষার ক্ষণগণনা শেষে এসেছে বিজয়ের মাস। এই প্রতীক্ষা ছিল পুরো একাত্তরজুড়ে। বাঙালি স্বাধীনতার স্বাদ বুঝেছিল মার্চের ৭ তারিখ বিকেলেই। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শেষে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীনতার বাণী। গর্জে ওঠে বাঙালি। চূড়ান্তভাবে ২৫ মার্চের নির্মম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পর স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। কালক্ষেপন না করে ঝাপিয়ে পড়ে বাঙালি। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অর্জন করে বিজয়।

ডিসেম্বর মাসের আগে থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে পিছু হটতে থাকে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সুসজ্জিত বাহিনী মুক্তিকামী মানুষের কাছে আত্মসমর্পণ করে এ মাসের ১৬ই ডিসেম্বর। নতুন ইতিহাস রচনা করে বাঙালি। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। ইতিহাসের ভাঁজে জায়গা করে নেয় ডিসেম্বর। প্রতিবছর যার প্রতীক্ষায় থাকে প্রতিটি বাঙালি।

এই ডিসেম্বর আমাদের আনন্দ, উল্লাস আর গৌরবের সাক্ষী। একইসঙ্গে সাক্ষী শোকের। তবে এই ডিসেম্বর মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল শামসদের সহযোগিতায় জাতির মেধা, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংসযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেওয়ার এমন ভয়াবহ হতাযজ্ঞ বিশ্ব ইতিহাসে আরো কোনো নজির নেই। ৯মাসের যুদ্ধে খুইয়েছি ৩০ লাখ প্রাণ। সম্ভ্রম হারিয়েছে মা-বোনেরা।

এসব শোককে শক্তিতে পরিণত করে এবং বিজয়ের সেই আনন্দকে বুকে ধারণ করে বিগত ৪৯ ধরে এগিয়ে চলছে প্রাণের দেশটি। একটু একটু করে বদলে গেছে নিজেই। বদলে দিয়েছে আমাদের স্বপ্নগুলো। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এখন আমরা পৌঁছে গেছি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) ৬ শতাংশের বাধা অতিক্রম করে ৮ দশমিক ছাড়িয়েছে।
বার্ষিক মাথাপিছু গড় আয় দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তকমা ঝেড়ে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরিতে উত্তরণের তিনটি পূর্বশর্ত পূরণ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের স্বীকৃতি আদায় করেছে অনেক আগেই। ব্যক্তি খাতে প্রবৃদ্ধির সুবাদে সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত হারেই বেড়েছে। অবকাঠামোসহ নানা খাতে সরকার প্রতি বছর ব্যয় করছে লাখ কোটি টাকার বেশি।

এক সময় খাদ্য চাহিদা পূরণ ও বাজেট বাস্তবায়নে বিদেশিদের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর খাদ্যসহায়তা নেয় না। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পও নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ  শেষের পথে। মহাকাশে পৌঁছেছে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট।

সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণ প্রজন্ম নতুন উদ্দীপনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে। এই ডিসেম্বর এলে শক্তি পাই নতুন করে। মনে পড়ে যায় আমরা বিজয়ী। বিজয়ই চূড়ান্ত লক্ষ্য।

সোনালীনিউজ/এমটিআই