মিনিকেট বলে কোনো চাল নেই : গবেষণা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০২১, ০১:১৮ পিএম

ঢাকা : দেশে প্রায় আড়াই দশক ধরে নানা জাতের ধানের চালকে সরু করে বাজারে মিনিকেট নাম দিয়ে হরদম বাজারে বিক্রি করছেন পরিবেশকরা। বাস্তবে মিনিকেট বলে কোনো চাল নেই। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষক দল।

বাজারে একটি ধারণা প্রচলিত আছে, দেখতে চিকন, ফরসা এবং চকচকে যেসব বিশেষ জাতের ধান-চালই মিনিকেট। ফলে অনেক ক্রেতা বাড়তি খরচ দিয়ে হলেও কিনে খাচ্ছেন এই চাল। মোটা বিভিন্ন জাতের চাল-ধান থেকে উৎপাদিত চাল পলিশ করে মিনিকেট নামে ব্র্যান্ডিং করছে মিল মালিকরা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষক দল দেশের ১০টি জেলা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের গবেষণা সমীক্ষার প্রতিবেদনে এটি বলা হয়েছে।

অতিসাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে খোদ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, মিনিকেট জাতের কোনো চাল নেই অথচ অন্য জাতের ধানে উৎপাদিত চাল মিনিকেট নামে ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের এ তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয় দেশে চাল প্রস্তুতকারক ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খানের কাছে। তিনি বলেন, এটি সত্য, মিনিকেট নামে কোনো ধান নেই।

খোরশেদ আলম বলেন, আসলে নাজিরশাইল (নাজিরশাহী), জিরাশাইল, শম্পা কাটারিসহ ব্রির বিভিন্ন জাতের ধানকে স্থানীয় পর্যায়ের মিলগুলো প্রসেস করে যে চাল পায়, তাকেই মিনিকেট বলে চালান মিলাররা।

গবেষণা প্রতিবেদনের দাবি, বাজারে মিনিকেট নামে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে বা বিক্রি হচ্ছে, তা আদৌ মিনিকেট নয়। মূলত বিআর-২৬, বিআর-২৮, বিআর-৩৩, ব্রি-৪৩, ৪৮ থেকে ৯৮ পর্যন্ত উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান এবং কল্যাণী, স্বর্ণা, গুটিস্বর্ণা, লাল স্বর্ণা, আইআর-৫০, জাম্বু ও কাজললতা ধানের চালকে মিনিকেট চাল হিসেবে চালানো হচ্ছে। এসব ধানের চালকে মিল পর্যায়ে গ্রেডিং ও মিক্সড গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে পলিশ করে চকচকে করা হয়।

গবেষক দলটি বলছে, বাস্তবতা হলো-বিশ্বের কোথাও মিনিকেট নামে কোনো ধান নেই। বিজ্ঞানীরা এ নামে কোনো ধান আবিষ্কার করেননি। দেশেও মিনিকেট নামে কোনো ধানের অস্তিত্ব নেই। তাই এ জাতের ধান উৎপাদনও হয় না। যেখানে ধান হিসেবে মিনিকেটের অস্তিত্বই নেই, সেখানে একই নামে চাল থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনিকেট একটি ব্র্যান্ড নাম, বাস্তবে এটি কোনো জাত নয়। এ নামে বিভিন্ন চালকে ব্র্যান্ডিং করছেন অটোরাইস মিলাররা। তা করা হচ্ছে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বেশি ক্রেতা টানতে এবং বাড়তি মুনাফা করতে।

এছাড়া অটোমেটিক মেশিনে পলিশের কারণে চালের স্বাভাবিক অবস্থা অটুট থাকছে না। মেশিনে হোয়াইটনার ব্যবহার করে চাকচিক্য ও উজ্জ্বল্যের ফলে আসল রূপ-গন্ধ হারিয়ে চাল হচ্ছে অধিক পিচ্ছিল ও সাদাটে। দেশের জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন চাহিদা ও প্রধান খাদ্য হচ্ছে ভাত। কিন্তু উপরিভাগের আঁশ তুলে নেওয়ায় ভিটামিন ও শক্তি-পুষ্টিহীন চাল ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।

সোনালীনিউজ/এমটিআই