‘কাউকে প্রশ্রয় দেই না বলেই আমার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ’

  • লাইজুল ইসলাম  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৩, ০৪:০৫ পিএম

ঢাকা: ঢাকা ওয়াসার যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব কর্মকর্তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যে ঢাকা ওয়াসার উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। এবারও যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুদকের সূত্র বলছে, মুন্সীগঞ্জের পদ্মপারের যশলদিয়া পয়েন্টে ৩ হাজার ৬৭০ কোটি ৪৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পে লোপাট করা হয়েছে অন্তত ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

ঢাকার অদূরে দাশেরকান্দি এলাকায় একটি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে ঢাকা ওয়াসা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৭১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। দুদকের পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নেও লোপাট হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা।

গন্ধববপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, গুলশান-বারিধারা প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকা এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-২-এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পেয়েছে দুদক। এ হিসাবে ওয়াসার বাস্তবায়িত চারটি প্রকল্পেই লোপাট হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

এসব বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান সোনালী নিউজকে বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আমাদের হেও প্রতিপন্ন করতে একটি ভেস্টেড গ্রুপ মিথ্যা তথ্যা ছড়ায়। তাদের জন্য আমরা কাজ করেও সমালোচনার মুখোমুখি হই। এই গ্রুপটি সব সময়ই এটা করে থাকে। তাদের স্বার্থউদ্ধার না হওয়ার কারনেই এমনটা করে থাকে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বিরূদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা এটা করছি ও করে যাচ্ছি। আমাদের তদন্ত কমিটি আছে। তারা বিভিন্ন সময় তদন্ত করে অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান পেয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও অনেক কর্মচারীর চাকরিও গেছে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায়।

তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছি বলেই এত শত্রু। ভেস্টেড গ্রুপ তাদের ইচ্ছে মতো কাজ করতে না পারায় ওয়াসার সফল কর্মকাণ্ডের পেছনে লেগে আছে। আবার অনেক কোম্পানিও আছে যারা কাজের সুযোগ না পেয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেড়াচ্ছে।

‘এখন যেহেতু অনেকের বিরুদ্ধে আবার নতুন করে অভিযোগ উঠেছে তাই আমরা তদন্ত করছি। যদিও চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই। কিন্তু তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার ক্ষমতা আছে। কাজেই সেই অনুযায়ী দুদকের পাশাপাশি আমাদের অভ্যন্তরীন তদন্তও চলবে।’

অনেকে বলেন এসব দুর্নীতির পেছনে আপনার মদদ আছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার মদদ থাকলে তো আমার বিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতো না। কাউকে প্রশ্রয় দেই না বলেই আমার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ। বলেন, এত অভিযোগ দেয়া হচ্ছে, একটারও কী প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। প্রমাণ করতে পারেনি বলেই একই অভিযোগ বারবার করে।

এ বিষয়ে ওয়াসার চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সোনালী নিউজকে বলেন, ওয়াসার অভ্যন্তরীণ তদন্তকে আমি তেমন একটা গুরুত্ব দেই না। নিজেরাই নিজেদের আর কি তদন্ত করবে। তবে যেহেতু অভিযোগ এখনো প্রমানিত হয়নি তাই এই বিষয়টা নিয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। 

বাইরের কাউকে দিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত হওয়া উচিৎ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার কাছে এখনো আসেনি। তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করবো না।

সোনালীনিউজ/এলআই/আইএ