ঢাকা: অন্তবর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী হলো আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।’ তার মতে, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইউকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম বলেন, তিনি চেয়েছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে এক করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ বা থার্ড অল্টারনেটিভ গড়ে তুলতে। তবে, এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সেটেলমেন্ট’-এর অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করল, তখন সেই ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ার স্বপ্ন পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে, তারা পুরনো কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই। কারণ, বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের স্বচ্ছ কোনো ভিশন বা পরিকল্পনা নেই।’
তিনি মনে করেন, আদর্শিক জায়গা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি—সব দিক থেকেই জামায়াতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন সম্ভব নয়। এক পর্যায়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত দেড় বছরের যাত্রা ছিল এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র মধ্য দিয়ে যাওয়া। যেখানে তার দৃষ্টিতে, পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সিস্টেম’ নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে, যা জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক— বিএনপি বা জামায়াত, সমাজের ভেতরে থাকা ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকবে না। তিনি বলেন, ‘শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার করলেই হবে না। সমাজে যদি ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা ‘রিনেগোসিয়েশন’ না হয়, তবে সমাজে মব ভায়োলেন্স বা বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।’
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। এই বিশ্বাস ফেরাতে হলে গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে তাদের অতীতের ভূমিকার জন্য এক ধরনের ক্ষমা বা বোঝাপড়ার জায়গায় আসতে হবে।
পিএস