পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে বাধা কোথায়?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
ফাইল ছবি

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে‑স্কেল ঘোষণার অপেক্ষা দীর্ঘ দিন ধরে চলছে। যদিও জাতীয় বেতন কমিশন সুপারিশ জমা দিয়েছে এবং বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তবু গেজেট প্রকাশ এখনো হয়নি। ফলে বাস্তবায়ন ঝুঁকির মধ্যে আছে।

গেজেট প্রকাশ বিলম্বের মূল কারণ হলো অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির সমন্বয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পে‑স্কেল কার্যকর করতে প্রায় ১.০৬ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অতিরিক্ত ব্যয় সরকারিভাবে পরিচালনা করা সহজ নয়।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে‑স্কেল প্রস্তাব প্রায় দু’দশক পর আপডেট করা হলেও বাস্তবায়নের আগে আরও হিসাব‑নিকাশ ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারের সাম্প্রতিক revised বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ থাকলেও গেজেট না থাকায় সরকারি কর্মকর্তারা তা সরাসরি বেতন পেতে পারছেন না। এই পার্থক্য কার্যকর নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফাঁক তৈরি করছে।

নতুন পে‑স্কেলের ঘোষণা না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু সংগঠন ইতিমধ্যেই সতর্ক করে জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে পে‑স্কেল কার্যকর না হলে দীর্ঘ মার্চ, অবস্থান কর্মসূচি বা অন্যান্য কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন হবে প্রায় ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা, যা বর্তমানের তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি। গ্রেড অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ১০০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, পে‑স্কেলের গেজেট প্রকাশে দ্রুততার জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি একযোগে এগোনো প্রয়োজন। এছাড়া বিভিন্ন ভাতা ও পদোন্নতি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করলে কর্মচারীদের সন্তুষ্টি বাড়বে এবং ভবিষ্যতের সরকারি সেবা প্রক্রিয়ায় বাধা কমবে।

নতুন পে‑স্কেলের অপেক্ষা এখন শুধু কর্মচারীদের নয়, সরকারি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনারও বড় চ্যালেঞ্জ। গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বাস্তবায়নের পথ এখনও বন্ধ, আর সরকারি কর্মচারীরা অধীর আগ্রহে প্রতিশ্রুত বেতন বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষা করছেন।

এসএইচ