নেই স্পিকার, নেই সংসদ: নতুন সরকারের শপথ পড়াবেন কে?

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ফাইল ছবি

নির্বাচনে জয়ী দলই সরকার গঠন করবে-এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, সেটি নিয়েই এবার আলোচনা-জল্পনা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অর্থাৎ ২৯৯ আসনের সংসদে তারা ১৫০টির বেশি আসন পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

তবে বেসরকারি ফলাফল আর সরকার গঠনের সাংবিধানিক ধাপ এক বিষয় নয়। নতুন সরকার কীভাবে দায়িত্ব নেবে, ক্ষমতা হস্তান্তর কীভাবে হবে-এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়।

সাধারণভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে যে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে, তা আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হওয়ার পর থেকে তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশই এখানে মূল ধাপ। বেসরকারি ফল ঘোষণার পর গেজেট প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে শপথের সময় গণনা শুরু হবে গেজেট প্রকাশের দিন থেকে, বেসরকারি ফল ঘোষণার দিন থেকে নয়।

গেজেট প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করবেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকারের সভাপতিত্বে নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই শুরু হবে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় নেতা এরপর সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রীরাও শপথ গ্রহণ করবেন। এভাবেই সম্পন্ন হবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দাবি সামনে আসায় সরকার গঠন এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গেজেট প্রকাশ এবং শপথের আনুষ্ঠানিকতা। সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

এসএইচ