যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশে এলো ১২টি জাহাজ 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর পেরিয়ে আসা ১২টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। বাকি তিনটি জাহাজ এই সপ্তাহে বন্দরে আসার কথা রয়েছে।

জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টিতে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের আগে যে জাহাজগুলি ছেড়েছিল, সেগুলো এখন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া কয়েকটি জাহাজ পথে রয়েছে। দুই–তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির ভেতরে বা কাছাকাছি বন্দরে আছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার, শিপিং লাইন, জাহাজ মালিক, পণ্যের মালিক এবং মেরিনাররা যুদ্ধ পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। হরমুজ প্রণালিতে কোনো হুমকি না থাকলে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ রোববার বন্দরে পৌঁছাবে। বুধবার ‘আল গালায়েল’ এবং সোমবার ‘লুসাইল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় আসবে। এসব জাহাজে মোট প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

এছাড়াও সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর বহনকারী কয়েকটি জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এই জাহাজগুলোতে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আনা হয়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশ জ্বালানি পণ্য।

সরকারি ও বন্দর সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এসএইচ