টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি উদ্ধার অভিযানের নামে একটি গারো পরিবারের বসতঘর গুঁড়িয়ে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীন রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদিবাসী ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে মধুপুর উপজেলার ধারাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদপুর রাবার এস্টেটের ম্যানেজার আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই পরিবারের ঘর ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় বাড়ির চারপাশের বিভিন্ন গাছপালাও কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন বিভাগের দখলে থাকা জমি উদ্ধারের জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। তাদের পুনর্বাসন বা ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য দুই বান্ডিল টিন, ছয় হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অভিযানের সময় আনসার সদস্যদের পক্ষ থেকে কিছু বাড়াবাড়ি হয়েছে। ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত না করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা না করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আদিবাসী ছাত্র, যুব ও নারী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতভিটা উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এসএইচ