ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের মতো ফের অধিবেশন শুরু হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশন ও সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠক বা অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার রেওয়াজ আছে। সেই রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।
জুলাই বিপ্লবের প্রায় ১৯ মাস পর শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন। এবার ব্যতিক্রম পরিস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া, স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণে থাকা বিভিন্ন বিষয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আহ্বান জানান নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন। সে সময় সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যরা (এমপি)।
সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষায় স্পিকার বার বার আহ্বান জানালেও প্রতিবাদ চালিয়ে যান বিরোধী জোটের এমপিরা। তাদের প্রতিবাদের মধ্যেই নিজের ভাষণ চালিয়ে যান রাষ্ট্রপতি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে নানা স্লোগান দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা। নতুন করে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে আজ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
এতে বলা হয়, বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ম) অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হবে মর্মে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস সম্পর্কিত যে কোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়।
পিএস