শেষ মুহূর্তের ঈদ কেনাকাটায় ফুটপাত থেকে শপিংমল সর্বত্রই উপচে পড়া ভিড়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের স্রোতে রাজধানীর রাজপথ ফাঁকা হতে শুরু করলেও চিত্রটা ভিন্ন বিপণিবিতানগুলোতে। ঈদুল ফিতরের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় শপিংমল থেকে ফুটপাত, সর্বত্র এখন উপচে পড়া ভিড়। 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর নিউ মার্কেট ও বসুন্ধরা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির পথে রওনা হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিতে ব্যস্ত নগরবাসী। যানজটহীন ফাঁকা ঢাকার নিস্তব্ধতা ভেঙে ঈদের আমেজ এখন কেবল শপিংমলগুলোতে।

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে আসা অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মব্যস্ততার কারণে আগে সময় বের করতে না পারায় শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে মার্কেটে আসতে হয়েছে। কেউ কেউ পরিবারের সবার কেনাকাটা আগেই সেরে রাখলেও, নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসটি কেনা বাকি ছিল। তাই ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন তারা। 

[267711]

সাশ্রয়ী মূল্যে পোশাক ও জুতা পাওয়ায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। 

গুলিস্তানের এক পোশাক বিক্রেতা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, গত দু-তিন দিন ধরে বেশ ভালো বেচাবিক্রি হচ্ছে এবং এই ধারা চাঁদরাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করছেন।

অন্যদিকে, বড় শপিংমলগুলোতে শেষ সময়ের ভিড়ে ক্রেতাদের ভোগান্তিও কম নয়। অনেক দোকানে পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে ঈদের আগে পছন্দের কেনাকাটা শেষ করার তাগিদে এই ভিড় ও কষ্ট হাসিমুখেই উপেক্ষা করছেন নগরবাসী।

রাজধানীর নিউ মার্কেটে মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা ইভা আক্তার জানায়, তার বাবা একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় কর্মরত। আজ রাতে ছুটি পাওয়ার পরপরই তারা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তাই শেষ মুহূর্তের বাকি কেনাকাটাগুলো দ্রুত সেরে নিচ্ছেন তারা। তবে মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় থাকায় পছন্দমতো পণ্য খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানায় সে। 

নিউ মার্কেটের মতো বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের বড় বিপণিবিতানগুলোতেও ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে ‘ইজি’, ‘প্লাস পয়েন্ট’ ও ‘ইয়োলো’র মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানিয়েছেন, শেষ সময়ে বেচাবিক্রি আশাতীত ভালো হচ্ছে এবং মানসম্মত পণ্যের খোঁজে শৌখিন ক্রেতারা ভিড় করছেন।

বেচাবিক্রির এই সুবাতাস বইছে জুতার বাজারেও। ‘এপেক্স’ ও ‘বাটা’র বিক্রয়কর্মীরা জানান, গত ৫-৭ দিন ধরে তাদের শোরুমগুলোতে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। রমজানের শুরুর দিকে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও ঈদের আগমুহূর্তে ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে জুতা কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, পরিবারের সবার কেনাকাটা শেষ করে এখন নিজের জন্য জুতা খুঁজছেন তিনি। তবে এবার জুতার দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে তার কাছে। 

তিনি আরও জানান, পছন্দ ও বাজেটের মধ্যে সামঞ্জস্য মিললে জুতা নিয়েই ঘরে ফিরবেন।

এদিকে ঈদের আমেজে ছেলেদের পোশাকের বাজারে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বরাবরের মতোই আধিপত্য বিস্তার করছে পাঞ্জাবি ও পাজামা। অভিজাত শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান, সর্বত্রই পাঞ্জাবি কেনার হিড়িক পড়েছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংলগ্ন এলাকার পাঞ্জাবি বিক্রেতা মোখলেস উদ্দিন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, গত তিন-চার দিনে বেচাবিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। আজ সকাল থেকে দুপুর ২টার মধ্যেই তিনি ১২টি পাঞ্জাবি বিক্রি করেছেন।

এসআই