রাজধানীর মগবাজারে কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, হুমকি ও চাপের অভিযোগের পর শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তা হাফেজ এনামুল হাসান নবীন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি ব্যবসা গুটিয়ে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি সাহস নিয়ে বাঁচতে চাই, কিন্তু কোনো ধরনের সহিংসতায় আমার সন্তানদের ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না। তাই আপাতত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে আবার ফিরতে পারি।”
এর আগে একই দিনে মগবাজারের একটি মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কম দামে পণ্য বিক্রির কারণে তাকে বিভিন্নভাবে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি জানান, মার্কেটে যাতায়াতের সময়ও নিজেকে নিরাপদ মনে হয়নি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়েছে।
নবীন আরও দাবি করেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ফোন করে দোকানের ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলতে বলা হয়। তা না হলে তার অন্যান্য ব্যবসাও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজেকে একজন প্রবাসফেরত উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে দেশে ফিরে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল স্বল্পমূল্যে ভালো মানের পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ কাজ করেন এবং সরবরাহকারীদের সহযোগিতার কারণে কম দামে পণ্য বিক্রি সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, তিনি অভিযোগ করেন যে আশপাশের কিছু ব্যবসায়ী তার এই কমমূল্যের বিক্রির বিরোধিতা করে সিন্ডিকেট তৈরি করে এবং প্রশাসনের সহায়তায় তার দোকান বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি ছিল নির্দিষ্ট মূল্যের নিচে পণ্য বিক্রি করা যাবে না।
সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নবীন বলেন, সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে যদি এ ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তবে উদ্যোক্তাদের জন্য তা নিরুৎসাহজনক। তিনি এই বিষয়ে যথাযথ সহায়তা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) মগবাজার এলাকায় একটি দোকানে কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আপত্তির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশি সহায়তায় দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার জের ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা।
এম