রহিত হওয়া সাতটি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রহিত হওয়া সাতটি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা সংশোধনের মাধ্যমে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতারা এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন’।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। 

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু যেভাবে অধ্যাদেশ ছিল সেভাবেই পাস হয়েছে। ১৩টি অধ্যাদেশকে আমরা সংশোধিত আকারে পাস করেছি, ৭টি অধ্যাদেশকে আমরা রহিতকরণ ও হেফাজত করে পাস করেছি। আর ১৬টি অধ্যাদেশকে আমরা উপস্থাপন করিনি।

তিনি বলেন, এটা হলো ১৩৩টি অধ্যাদেশের স্ট্যাটাস। এরমধ্যে এই ১১০টি অধ্যাদেশকেই বিল আকারে উপস্থাপন করতে হয়েছে। ৯১টি বিলের মাধ্যমে এই ১১০টি আইন সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে এবং সংসদে এই ৯১টি বিল পাস করা হয়েছে। অন্যান্য বিলের ব্যাপারে আমরা যেটা বলেছি, অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘যে ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ করা হয়েছে তার মধ্যে—মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন—এ তিনটি আইনেরই আমরা একটা আইন যখন বিল আকারে দেই, তখন একটা প্রিয়েম্বল থাকে আইনের। এই আইনটা কেন আমরা দিচ্ছি? সেখানে একটা কারণ-সম্বলিত বিবৃতি দিতে হয়—সেটা কেন দিচ্ছি। এই বিলগুলোর মধ্যে ক্লিয়ারলি আমরা বলেছি, যেমন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিলে বলেছি, যেহেতু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৭-এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশেও বলেছি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ২০০৭-এর বিধানাবলি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিষয়েও বলেছি, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে কোনো অ্যাম্বিগুইটি (অস্পষ্টতা) রাখিনি, কোনো অস্পষ্টতা নেই। আমাদের সংসদের কাছে আইনের মাধ্যমে যখন বিলটা উপস্থাপন করছি, ইট বিকামস অ্যান্ড ইট পাসড—এটা আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। রহিতকরণ বিল হলেও এটা কিন্তু আইনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। ওই আইনের অংশই হলো যেটা অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য আমরা কমিটমেন্ট দিয়েছি পার্লামেন্টের মাধ্যমে গোটা জাতিকে।

তিনি আরও বলেন, আমি পার্লামেন্টে উত্তর দিতে গিয়ে বলেছিলাম, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সব পড়েছেন, শুধু এতটুকু পড়েননি যতটুকুতে সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি দেওয়া আছে। যে আইনের প্রিয়েম্বলে জেনারেলি বলা থাকে না যে উপস্থাপনা এবং প্রস্তাবনা, প্রস্তাবনা সম্বলিত জায়গায় আমরা দিয়েছি। এটা হলো আমাদের স্বচ্ছতার জায়গা।

পিএস