পুলিশে বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ১০:১৯ এএম


পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বাধ্যতামূলক অবসর ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ৩১ মে ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বড় একটি অংশ অবসরের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই ব্যাচের অন্তত ৪৫ জন কর্মকর্তা বর্তমানে বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় আছেন। যদিও তাদের বেশির ভাগই এখন সংযুক্ত (অ্যাটাচড) বা ওএসডি হিসেবে দায়িত্বের বাইরে রয়েছেন।

এর আগে ১৫, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।

অতীত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের প্রভাব

পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের একটি অংশ সাবেক সরকারের সময় প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে কিছু কর্মকর্তা অতিউৎসাহী হয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ, হামলা এবং গুলি চালানোর মতো অভিযোগও উঠে এসেছে। পাশাপাশি গুম ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

সরকার পরিবর্তনের পর এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কর্মকর্তা আত্মগোপনে চলে যান, আবার অনেকে সাময়িক বরখাস্ত বা সংযুক্ত অবস্থায় আছেন।

সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে মতভেদ

পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলে বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠন সহজ হবে। একই সঙ্গে তদন্ত ও শৃঙ্খলা প্রক্রিয়াও এগোবে।

তবে অন্য একটি অংশ মনে করছে, মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞ ও পেশাদার কর্মকর্তার ঘাটতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রম

উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড এখন পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তাদের বিষয়ে আলাদা নজরদারি চালাচ্ছে এবং একটি সমন্বিত তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধানও শুরু করেছে। এর মধ্যে একজন ডিআইজির বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

গত কয়েক মাসে পুলিশ প্রশাসনে কয়েক দফা রদবদল হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সর্বশেষ এক প্রজ্ঞাপনে ১১ জন ডিআইজি এবং ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এম