ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৮:৫১ এএম

মিয়ানমারে মধ্যরাতে আঘাত হানা ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরীসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় মৃদু ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে ২০ দশমিক ৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩ দশমিক ৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের কম্পন চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, বান্দরবান ও আশপাশের এলাকায় অনুভূত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অনেকেই গভীর রাতে কয়েক সেকেন্ড ধরে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠতে দেখে আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভূমিকম্প অনুভবের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে দেখা গেছে অনেককে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকম্পের প্রভাব প্রায়ই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। বিশেষ করে মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূমিকম্প বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেশি প্রভাব ফেলে।

এর আগের দিন শনিবার (৯ মে) বিকেলেও দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বিলাসিপাড়া এলাকায়। কম গভীরতায় উৎপন্ন হওয়ায় এর কম্পন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সেকেন্ডের ওই কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে এবং অনেকেই আতঙ্কে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

ভূমিকম্পের পর বিশেষজ্ঞরা সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এম