পে স্কেল: সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ঘিরে আবারও আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত মিললেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হতে পারে। ইতোমধ্যে নীরবে চলছে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয় মাথায় রেখে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক বরাদ্দ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে। ফলে একযোগে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনে সীমিত পরিমাণ বৃদ্ধি আনা হতে পারে। পরে পর্যায়ক্রমে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিতে পারে।

পে কমিশনের সুপারিশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরভোগীর আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় দিলে রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে আসন্ন জাতীয় বাজেটের আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও এখনো নবম পে স্কেল কার্যকর না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন।

সব মিলিয়ে এখন সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সবুজ সংকেত মিললেই দেশের লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামোর পথ খুলে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিএস