ঢাকা: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিবসে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও কমিশনারগণের “মুক্ত আলোচনা” অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারগণ প্রধানমন্ত্রীর সম্মুখে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এসকল প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী শুনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এসকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবগণকে নির্দেশনা দিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামী দু‘এক দিনের মধ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে বলে মন্ত্রিপরিষদ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, গত ৩-৬ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিনের মুক্ত আলোচনায় জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা প্রধানমন্ত্রীর সামনে বেশকিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, চট্টগ্রামে খাল খননে প্রাপ্ত মাটির যথাযথ ব্যবহার এবং অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে কৃষিজমি সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ; কক্সবাজারসহ সকল জেলায় ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম অটোমেশন এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ ‘আইবাস++’-এর মাধ্যমে প্রদান; উপকূলীয় অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির লবণাক্ততার দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চমাত্রিক তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ; তিন পার্বত্য জেলায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা; উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে ইটডাটার অনুমোদন বহাল রাখা এবং তিন পার্বত্য এলাকায় ম্যালেরিয়া ও সাপে দংশনের রোগীদের চিকিৎসা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন; হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর বাজার এবং চুনারুঘাট উপজেলার চড়িছড়া চা বাগানের বড়ফিন্ড এলাকায় চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য পৃথক ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ২টি হাসপাতাল নির্মাণ; অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রণয়নপূর্বক মোবাইল কোর্ট আইন-এর তফসিলভুক্তকরণ; বগুড়া বিমানবন্দরে কার্গো বিমান উঠানামার উপযোগী অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন; বিপুল ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের অসম্পূর্ণ প্রকল্প দ্রুত ব্যবহারযোগ্য ও নিরাপদকরণ; আন্তর্জাতিক নৌ-প্রটোকল রুটের আওতায় ভারতের আসাম এবং নেপাল-ভুটান অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য ও কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিলমারী রেলস্টেশন থেকে চিলমারী নদীবন্দর পর্যন্ত ৫০০ মিটার দীর্ঘ রেললাইন সম্প্রসারণ; মাদক ও চোরাচালান রোধে মৌলিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের বিজিবির সহযোগী সদস্য হিসেবে সীমান্ত এলাকায় নিয়োগ প্রদানের বিষয় বিবেচনা; ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পুনঃখনন, ভাঙা-বরিশাল ও বরিশাল-পটুয়াখালী সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং ভোলা জেলায় ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন; অত্যন্ত ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আট লেনে উন্নীতকরণ; হাওর এলাকার রোগীদের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুকরণ; টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট এর মাধ্যমে ডাকাতিয়া বিলসহ সংলগ্ন ছোট-বড়ো ২৭টি বিলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন; অভ্যাসগত অপরাধী, বিশেষ করে মাদক মামলায় ৩ বার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে জামিন অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার লক্ষ্যে আইন সংশোধন।
এসকল প্রস্তাব শোনার পর প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তার নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, ইটভাটায় মাটির ব্যবহার পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি করে বিধায় মাটির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে সিমেন্ট ব্রিক ও হেলো ব্রিকের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে; নতুন সড়ক বা অতিরিক্ত লেন নির্মাণের পরিবর্তে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করতে হবে; বনায়ন এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি খাস জমি ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তি উদ্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহীদের আবেদন সাপেক্ষে ১৫ বছর মেয়াদে খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; সরকারি টেন্ডারে নির্দিষ্ট পরিমাণে সিমেন্ট ব্রিক/হেলো ব্রিক ব্যবহারের বিষয় নিশ্চিত করতে হবে; অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন ইটভাটার অনুমোদন প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে; শিশু ও তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে হবে; স্থানীয় ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমে জেলাভিত্তিক এবং পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; খাল খনন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি যথাযথভাবে যাচাইপূর্বক প্রতি ১৫ দিন অন্তর প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে।
পিএস