ঢাকা: বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছর পেছানোর আবেদনে সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের। এ বিষয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের (সিডিপি) ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে।”
কোন প্রেক্ষাপট থেকে জাতিসংঘের এ বক্তব্য এসেছে তা তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, “সিডিপি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছেন, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানো যথাযথ হবে।
“তবে বাংলাদেশকে এ সময়ে তার বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে।”
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে।
কিন্তু কোভিড মহামারীর কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় দুই বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা থাকার কথা নয়।
সে কারণে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময় এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৪ অগাস্ট দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৬টি বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা উত্তরণ তিন থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানো, ওষুধ ও তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট মোকাবিলা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতির জন্য এই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে তারা দাবি পেশ করেছিল।
এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করলেও পেছানোর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বগ্রহণের পরদিন এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি পাঠায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
পরে ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের নিকট প্রেরিত এক পত্রে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘের তরফে কী বক্তব্য এসেছে, তা তুলে ধরে মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, সিডিপি তার মূল্যায়নে বলেছে, বাংলাদেশ তিনটি এলডিসি উত্তরণ সূচকের প্রতিটিতেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে এবং নিকট ও মধ্যমেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।
“তবে সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।”
বাংলাদেশের প্রণয়ন করা ‘স্মুথ ট্রানজিশান স্ট্র্যাটেজি’ (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে সিডিপি স্বাগত জানিয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
পিএস