নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল ঘোষণার আভাস মিললেও, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের গুঞ্জনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ কর্মচারীরা। তাদের দাবি, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণ কর্মচারীরা ঋণে জর্জরিত। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ জুলাই থেকেই শতভাগ মূল বেতন একবারে কার্যকর করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, বিগত সরকার কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরিবর্তে পূর্বের অধিকার হরণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা। কর্মচারীরা অনতিবিলম্বে এই সুবিধাগুলো পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি পেনশনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংস্কার চান তারা। কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানের ২৫ বছরের পরিবর্তে ২০ বছর চাকরি পূর্ণ হলেই যেন পূর্ণ পেনশনসহ স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে একদিকে যেমন সরকারের ব্যয় কমবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া পেনশন গ্রাচুইটির হার বর্তমানের ২৩০ টাকার পরিবর্তে কমপক্ষে ৪০০ টাকায় উন্নীত করার পাশাপাশি অন্যান্য সকল ভাতা যুগোপযোগী করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে যারা ব্লক পদে চাকরি করছেন, তাদের পদোন্নতির বৈষম্য দূর করার তাগিদ দিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। ২০১৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী একটি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার পর আর গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। এই নিয়ম সংশোধন করে একই পদে ৮ থেকে ১০ বছর কর্মরত কর্মচারীদের ১১তম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার স্থায়ী নিয়ম চালুর দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর যে পে স্কেল হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আর কোনো জল্পনা-কল্পনা কর্মচারীরা মেনে নেবে না। বাজার পরিস্থিতির কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। কর্মচারীদের এই হতাশা দূর করতে এবং তাদের স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপনের সুযোগ দিতে দ্রুত চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য সরকারের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
এসএইচ