অনলাইন জুয়ায় ১০ বছর জেলের নতুন বিধান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি

ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যাধি অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার মরণকামড় থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে অবশেষে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল সরকার। দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো আইন ভেঙে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’। নতুন এই কঠোর আইনে অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানার মতো নজিরবিহীন সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। একই দিন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে সেটিও সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮৬৭ সালের দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট বর্তমানের আধুনিক ডিজিটাল অপরাধ রুখতে পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। বর্তমান যুগে ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছিল, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। নতুন এই আইনে জুয়ার পেজ চালানো, বিদেশি বেটিং সাইটের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা কিংবা জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের মতো অপরাধগুলোকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অজামিনযোগ্য’ করা হয়েছে, যার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে।

একই অপরাধে যাতে আইনি জটিলতা বা একাধিক আইনের ওভারল্যাপিং না হয়, সেজন্য সাইবার সুরক্ষা আইনের ১ কোটি টাকা জরিমানার ২০ নম্বর ধারাটি বাতিল করে এই নতুন বিশেষায়িত আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অবিলম্বে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইন ডিজিটাল জুয়ার অন্ধকার থাবা থেকে দেশের যুবসমাজ ও অর্থনীতিকে মুক্ত করতে এক যুগান্তকারী দেয়াল হয়ে উঠবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এসএইচ