পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে জটিলতা তৈরি

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) সংক্রান্ত গেজেট চলতি জুলাই মাসে প্রকাশ হচ্ছে না। প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশা, আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত। তবে আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করেই সরকার গেজেট প্রকাশ করতে চায়। যদিও প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে, তবুও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন।

গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতনের হার, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং অবসর-সুবিধার ওপর এর প্রভাব নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ সফটওয়্যার জটিলতা। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও গ্র্যাচুইটির হিসাব ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস (iBAS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ সময়োপযোগী হলেও এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

পিএস