প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায় চাপিয়ে কৃচ্ছতা সাধনের উদ্যেগ

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি বা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায় চাপিয়ে কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা হ্রাসের চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর্থিক সুবিধার মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের মোটযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং স্কলারশিপ/ফেলোশিপ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন প্রদানের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি প্রদান।

কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা কমিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করতে এমন চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি পরিচালন ব্যয় কমাতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমনোর ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। 

অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাগণ যারা সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের পর গাড়ীসেবা নগদায়ন এর আওতায় মোটর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে যে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন তা কিছুটা হ্রাস করার সুযোগ রয়েছে। মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা হারে নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদসয় নির্দেশনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনার প্রেক্ষিতে উক্ত মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সংকোচনের বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যেগ গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

স্কলারশিপ/ফেলোশিপ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন প্রদানের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি প্রদান বিষয়ে অপর এক চিঠিতে বলা হয়, দেশে ও বিদেশে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রী অর্জনের জন্য অধ্যায়নের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্কলারশিপ/ফেলোশিপের আওতায় পড়াশোনা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রাপ্ত হন। পূর্ণ স্কলারশিপ/ফেলোশিপ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন প্রদানের ফলে স্কলারশিপের পাশাপাশি পূর্ণ বেতন-ভাতা সুবিধাও পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ডেপুটেশন/পূর্ণ বেতন-ভাতাদি প্রদানের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি প্রদানের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পূর্ণ স্কলারশিপ/ফেলোশিপ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেপুটেশন প্রদানের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি প্রদানের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক প্রয়োজনীয় উদ্যেগ গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো দুইটা চিঠিতেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায় চাপানো হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তই সরকার নিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা কমানোর এই চিঠিতে বার বার প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায় চাপিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে করে কর্মকর্তাদের মনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। 

সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে শেখ হাসিনার সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও এসকল কর্মকর্তারা বহাল থেকে সরকারকে বেকাদায় ফেলতে কাজ করছেন। এই চিঠি সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিষয়ে সতর্ক দৃর্ষ্টি রাখা দরকার বলে মনে করেন ঐ কর্মকর্তা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আর্থিক খাত ধ্বংসকারী সাবেক অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও অনুগত হিসেবে তার সুপারিশে প্রথমে জ¦ালানী সচিব এবং পরে অর্থ সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয় অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে। অর্থ বিভাগে যোগদান করার পর বক্তব্য বিবৃততে জয় বাংলার সাথে জয় বঙ্গবন্ধু বলা শুরু করে। ৫ আগস্টের আগে ফেসবুকে লাল প্রোফাইলের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের প্রোফাইল কালো করার নির্দেশ দেওয়া এই কর্মকর্তা এখনো অর্থসচিব হিসেবে বহাল রয়েছেন।

আট বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বহাল আছেন অতিরিক্ত সচিব দিলরুবা শাহীন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের টোকাই এবং ভাড়ায় এসেছে বলে প্রচার করা এই কর্মকর্তা এখনও অর্থ মন্ত্রণালয়ে বহাল রয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে বহাল আছেন শেখ হাসিনার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের দীর্ঘদিনের একান্ত সচিব ড. ফেরদৌস আলম, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে থাকা অতিরিক্ত সচিব সাহানা, অতিরিক্ত সচিব হাসানুল মতিন, যুগ্ম সচিব মো: তারিকুল ইসলাম খান, আশরাফুল আলম, দিল্লীতে দীর্ঘ ৬ বছর দায়িত্ব পালন করা যুগ্মসচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন প্রমুখ।

এসআই/এম