পে স্কেল দুই বছর পেছানোর আনুষ্ঠানিক সুপারিশ, নতুন কৌশলে সরকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

সরকারি চাকরিজীবীদের কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আপত্তি ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাতিল না হলেও, অন্তত তিন মাস পিছিয়ে যেতে পারে এর চূড়ান্ত রূপরেখা। তবে আইএমএফ দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সরকার ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল খুঁজছে।

রোববার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সচিব কমিটির এক পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সরকারের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ এই বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে আইএমএফের প্রতিনিধি দল নতুন পে-স্কেল নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটির মতে, এই মুহূর্তে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ব্যয় একলাফে বিপুল পরিমাণ বেড়ে যাবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। এ কারণে আইএমএফ এই পে-স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক পরামর্শ দেয়।

তবে সরকার আইএমএফের এই দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাংশের পরামর্শ পুরোপুরি আমলে নিতে চাচ্ছে না। আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং নভেম্বরে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল আবারও ঢাকা সফরে আসবে। সরকারের পরিকল্পনা হলো—আইএমএফের সঙ্গে আগামী নভেম্বরের বৈঠকের আগেই পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে ফেলা, যাতে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কোনো দরকষাকষির সুযোগ না থাকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটিকে আরও অন্তত দুই থেকে তিনটি পর্যালোচনা বৈঠক করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে আরও তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে। এরপর কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে এবং মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের বার্ষিক সভার আগেই এই গেজেট আলোর মুখ দেখতে পারে।

তবে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে সরকার একবারে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করে, ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা বাবদ বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে পেনশন ও গ্রাচুইটি যোগ করলে মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাব মতে, নতুন পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা জোগান দিতে হবে।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার কোনোভাবেই সরে আসছে না। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ যেন তৈরি না হয়, সে জন্য ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ উপায় খোঁজা হচ্ছে।

এম